সর্বশেষ নিলামে এ সূচক ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যা সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে পাল্টে দিয়েছে। এ নিয়ে চলতি নতুন মৌসুমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কমেছে বিশ্ববাজারে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম। এতে বৈশ্বিক চাহিদা ও বাজার স্থিতিশীলতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে উদ্বেগ। খবর এগ্রিল্যান্ড ও দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।
নিলামের তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৪০৬তম অনলাইন নিলামে বিক্রি হয়েছে মোট ১২ হাজার ৯২২ টন দুগ্ধজাত পণ্য। এ আন্তর্জাতিক নিলামে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫১ জন ক্রেতা অংশ নেন। বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, আগের নিলামের তুলনায় এবার পণ্য বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কম ছিল। আগের নিলামে ১৪ হাজার ৩৬৪ টন পণ্য বিক্রি হয়েছিল।
ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন বাণিজ্য মৌসুমের শুরুতে টানা দুবার দাম কমায় বিশ্বজুড়ে দুগ্ধ উৎপাদনকারী ও খামারিদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে দুই সপ্তাহ আগের নিলামেও দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমেছিল।
পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, বিশ্ববাজারে তরল দুধের দাম নির্ধারণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে গুঁড়া দুধ। আর সেই হোল মিল্ক পাউডার (ডব্লিউএমপি) বা ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের দাম এবার ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে গেছে। প্রতি টন ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮৯ ডলারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে কেনাবেচা হওয়া স্কিমড মিল্ক পাউডার (এসএমপি) বা ননিমুক্ত গুঁড়া দুধের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি টন এসএমপির গড় দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৬৮ ডলারে।
নিলামে অন্য প্রধান ডেইরি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে চিজ বা পনিরের। মোজারেলা চিজের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৭৫০ ডলারে নেমে আসে। চেডার চিজের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৪৭১ ডলারে। অন্যদিকে মাখন বা বাটারের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি টনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১৬ ডলারে। এছাড়া অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট (এএমএফ) বা বিশুদ্ধ দুগ্ধজাত চর্বির দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি টন ৬ হাজার ৬০১ ডলারে নামে।
এ নেতিবাচক প্রবণতার মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিল ল্যাকটোজের বাজার। পণ্যটির দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি টনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০২ ডলারে। তবে এ নিলামে বাটার মিল্ক পাউডার বিক্রির জন্য ডাক হয়নি।
ইউরোপীয় ডেইরি সমবায় সংস্থা অরনুয়ার একটি সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপের বাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গিয়েছিল। তবে বিশ্ববাজারে দুধ সরবরাহ এবং ভবিষ্যতের চাহিদা নিয়ে এক ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতির কারণে বছরের দ্বিতীয় ভাগে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বড় আকারে বাড়ার সম্ভাবনা বেশ সীমিত। তবে আগামী দিনগুলোয় এ দরপতন অব্যাহত থাকলে খামারি ও রফতানিকারকদের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।